Header Ads Widget

আসাদের পতন ঘটার পর সারাবিশ্বে সিরীয়রা উল্লাস প্রকাশ করছে

বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পালিয়ে যাওয়ার সংবাদে সিরিয়ার জনগণের মধ্যে আনন্দের ঢেউ উঠেছে। আসাদের পতনের ফলে বিশ্বব্যাপী সিরীয়রা উল্লাসিত হয়েছে।




বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ যখন পালিয়ে যান, তখন জনগণ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট শুরু করে। অন্যদিকে, আসাদের পতনের ফলে শুধু সিরিয়াতেই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সিরীয়রা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেছে।


দামেস্ক থেকে বিবিসি-র সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আসাদের পালানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে দামেস্কের রাস্তায় সিরিয়াবাসীরা উল্লাসে মেতে ওঠে। এ সময়, বহু মানুষ আসাদের প্রাসাদে প্রবেশ করে প্রায় সবকিছু লুট করে নিয়ে যায় এবং পুরো ভবনটিকে তছনছ করে ফেলে।

লুটপাটকারী এই ব্যক্তিদের অধিকাংশই গ্রাম থেকে এসেছে। তারা প্রতিশোধের তীব্র আগুন নিয়ে প্রসাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে প্রবেশ করতে পারায় তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।

মানুষজন অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। তারা যা কিছু পারে, তা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলতেও ভুলছে না। আসাদ এবং তার বাবার দীর্ঘকালীন নিপীড়নমূলক শাসনের প্রতিশোধ এভাবেই গ্রহণ করছে তারা।

বিদ্রোহী যোদ্ধারা যখন দামেস্কের রাজধানীতে প্রবেশ করছিল, তখন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে দেশ ত্যাগ করেন। তিনি ২৪ বছর ধরে সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটলো। দামেস্কের পূর্বে আলেপ্পো, হোমসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণও বিদ্রোহীদের হাতে চলে আসে।

সিরীয়দের মধ্যে স্বৈরশাসক আসাদের পতনের ফলে রোববার আনন্দের ঢেউ বইতে থাকে। অনেকেই সেনাবাহিনীর ট্যাংকের ওপর উঠে উল্লাস প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষ বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দে মাতেন।

সিরিয়ার হোমসে বিদ্রোহীরা অস্ত্র উঁচিয়ে আনন্দ ও উল্লাস প্রকাশ করছে। আসাদের শাসনের অবসান ঘটার পর শনিবার মধ্যরাতে জনতা উল্লাস করে আতশবাজি ফুটিয়েছে।

সিরিয়ার সীমান্তের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সিরীয়রা এই আনন্দে অংশগ্রহণ করে রাস্তায় নেমেছে। বার্লিনে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় এসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করেছে।


তাদের ব্যানারে লেখা ছিল “গণতন্ত্র আমাদের আকাঙ্খা”। ২০১৫ সাল থেকে বার্লিনে বহু সিরীয় আশ্রয় গ্রহণ করেছে। জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় নাগরিক বসবাস করছে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সিরীয়রা ‘সিরিয়ার বিপ্লবের প্রতি সমর্থন’ জানিয়ে রাস্তায় নেমে উল্লাস করেছে। একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও।


গ্রিসে সিরীয় বিদ্রোহীদের সমর্থকরা রোববার রাজধানী এথেন্সের সিরীয় দূতাবাসে প্রবেশ করে ছাদে বিদ্রোহীদের পতাকা উড়াতে শুরু করে। পুলিশ কিছু সমর্থককে আটক করলেও পতাকা নামাতে পারেনি। দূতাবাসের বাইরে আরও কিছু মানুষ জড়ো হয়ে উল্লাস প্রকাশ করে।



 

Post a Comment

0 Comments