বাংলাদেশ সেন্ট ভিনসেন্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে জাকের আলি ৪১ বল খেলে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭২ রান করেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬ ওভার ৪ বল খেলে ১০৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় বলেই ব্রান্ডন কিংকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই পেসার, এবং রিভিউ নিয়েও তিনি রক্ষা পাননি। সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই তাসকিনের শিকারে পরিণত হয়েছেন কিং।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ০.৫ ওভারের পর বৃষ্টি শুরু হয়। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং মিনিট বিশেক পর আবার খেলা শুরু হয়। দ্বিতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। নতুন বলে দুর্দান্ত শুরু করেন শেখ মেহেদি। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে উইকেট লাভ করেন। এই ডানহাতি অফ স্পিনারকে লং অন দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন জাস্টিন গ্রিভস। ফলে ৭ রান সংগ্রহ করতেই উইন্ডিজ ২ উইকেট হারায়।
নিকোলাস পুরাণ ও জনসন চার্লস একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে আবারও আউট হন পুরাণ। মেহেদি তাকে বোকা বানিয়ে বোল্ড করেন। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে নিচু হয়ে ঢোকা বলে লাইন মিস করে তিনি আউট হন। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১৫ রান।
পাঁচে নেমে রোস্টন চেইস ডাক মারেন। চার বল খেলার পর রানের খাতা খুলতে না পারেই হাসান মাহমুদের বলে মেহেদির হাতে ক্যাচ দেন। অন্যদিকে, চার্লসও রান আউটের শিকার হন, সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ২৩ রান। এর ফলে, দলীয় ফিফটির আগেই উইন্ডিজ ৫ উইকেট হারায়।
এরপর স্বাগতিকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। লোয়ার মিডল অর্ডারে রভম্যান পাওয়েল ও গুড়াকেশ মোতিরাও আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। তবে রোমারিও শেফার্ড কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন, তার ইনিংসে ২৭ বলে ৩৩ রান আসে।
৬৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যকফুটে গেলে আরো একবার দলের হাল ধরেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও জাকের আলি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে শুরুতে দুজনে কিছুটা রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলেছেন। আর রানের গতি বাড়াতে গিয়েই ফিরেছেন মিরাজ। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ বলে ২৯ রান।
এদিন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দেওয়া হয় শামিম হোসেনকে। কিন্তু গত দুই ম্যাচে দারুণ ব্যাট করলেও আজ তার ভাগ্য সহায় হয়নি। ২ রান করে জাকেরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়েছেন। একই পথে হেটেছেন শেখ মেহেদিও।
দুই ব্যাটারের রান আউটের সঙ্গেই ছিল জাকেরের নাম। তাই বাড়তি দায়িত্ব ছিল তার ওপর। সেটা ভালোভাবেই পুষিয়ে দিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। শুরুতে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও ফিনিশিংটা করেছেন দুর্দান্ত। এক প্রান্তে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিয়ে ৩ চার ও ৬ ছক্কায় ৪১ বলে করেছেন অপরাজিত ৭২ রান।
জাকেরকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তানজিম সাকিব। এক চার ও এক ছক্কায় ১২ বলে ১৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।


0 Comments