গাজার জনসংখ্যা ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে



প্রায় ১৫ মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চলে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই বর্বর আগ্রাসনে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবুও, ইসরায়েল হামাসকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়নি, যা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।


একটি ভয়াবহ রিপোর্ট সামনে এসেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের ফলে গাজার জনসংখ্যা ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আনাদোলু সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের কারণে গাজার জনসংখ্যা ৬ শতাংশ কমে গেছে, যা মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান দ্বারা প্রতিফলিত হয়েছে। ফিলিস্তিনের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)-এর প্রধান ওলা আওয়াদ জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের জনসংখ্যা বর্তমানে ২১ লাখে দাঁড়িয়েছে। এর মানে হলো, ২০২৩ সাল থেকে গাজার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার কমেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়াদ আরও জানান, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আরও ১ লাখ মানুষ এই ভূখণ্ড ত্যাগ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৮১ জন শিশু এবং ১২ হাজার ৪৮ জন নারী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাছাড়া, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল এই অবরুদ্ধ অঞ্চলে তার নৃশংস হামলা অব্যাহত রেখেছে।


এছাড়াও, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।