বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে বরিশালের জয়
ইয়াসির আলি রাব্বির ঝড়ে দুর্বার রাজশাহী একটি বড় সংগ্রহ অর্জন করেছিল। রান তাড়ায় নেমে ফরচুন বরিশালের জন্য এটি বেশ কঠিন মনে হচ্ছিল।
তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং ফাহিম আশরাফের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা সহজ জয় অর্জন করেছে। চার ও ছক্কার এই বিপিএল যেন সত্যিই এবারের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘নতুন’ কিছু উপস্থাপন করেছে।
সোমবার মিরপুরে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ফরচুন বরিশাল দুর্বার রাজশাহীকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে। রাজশাহী প্রথমে ব্যাটিং করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান সংগ্রহ করে। এরপর বরিশাল ১১ বল বাকি থাকতেই সেই রান তাড়া করে জয়লাভ করে।
টস হেরে ব্যাটিং শুরু করে রাজশাহী ভালো সূচনা করতে পারেনি। দুই বলের মধ্যে কোনো রান না করেই কাইল মেয়ার্সের বলে বোল্ড হয়ে যান জিসান আলম। এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটে রানের বন্যা ছিল, কিন্তু বিপিএলে প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খেলতে নেমে তিনি ব্যর্থ হন।
মোহাম্মদ হারিসকে এক ওভার পর ফেরান মেয়ার্স। তিনি ১২ বলে ১৩ রান করে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এরপর এনামুল হক বিজয় ও ইয়াসির আলি রাব্বি দলের হাল ধরেন।
পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে তারা ২ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেন। শুরুতে কিছুটা স্থিতিশীল থাকার চেষ্টা করলেও ইয়াসির-বিজয় জুটি পরে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন। বিশেষ করে ইয়াসিরের ব্যাটিং ছিল চমকপ্রদ। রিপন মন্ডলের এক ওভারে তিনি ১৬ রান নেন।
ইয়াসিরের সঙ্গে ৮৭ বলে ১৪০ রানের জুটি গড়ার পর এনামুল আউট হন। তিনি ৫১ বলে ৬৫ রান করে ফাহিম আশরাফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে ইয়াসির শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন, ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৪৭ বলে ৯৪ রান করেন।
রান তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি জিসান আলমের বলে এলবিডব্লিউ হন। দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদ তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে দেন। তিনি ৫ বলে ৭ রান করে এলবিডব্লিউ হন। চতুর্থ ওভারে তারা তৃতীয় উইকেট হারান, যখন রায়ান বার্লের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫ বলে ৬ রান করেন মেয়ার্স।
মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাওহীদ হৃদয় হাল ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি ১১ বলে ১৩ রান করে হাসান মুরাদের বলে ক্যাচ দেন মুশফিক। কিছুক্ষণ পর তাওহীদ হৃদয়ও ২৩ বলে ৩২ রান করে আউট হন।
তাদের বিদায়ের পর বরিশাল পাঠায় শাহিন শাহ আফ্রিদিকে, যিনি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ১৭ বলে ২৭ রান করে আউট হন। শাহিন ২৫ বলে ৫১ রান করে আউট হন।
শেষ সাত ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৮৫ রান। খেলার মোড় পরিবর্তনের সূচনা করেন ফাহিম আশরাফ। হাসান মুরাদের ১৫তম ওভারের শেষ তিন বলেই তিনি ছক্কা মারেন। পরবর্তী ওভারে মৃত্যুঞ্জয় ১৯ রান দেন।
এখন সমীকরণটি সহজ হয়ে যায়। ২৪ বলে প্রয়োজন ৩৯ রান। সবকিছু একেবারে হাতের নাগালে চলে আসে। সামারাকুনের ১৭তম ওভারে তিনি ২৫ রান দেন। মাহমুদউল্লাহ ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন, আর ফাহিম আশরাফ ২১ বলে। তাদের জুটিতে আসে ৩৫ বলে ৮৮ রান। ২৬ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ, এবং ফাহিম আশরাফ ২১ বলে ১ চার ও ৭ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

0 Comments